Sunday , September 22 2019
Home / bangladesh / উঠেও শেষ চার নিশ্চিত নয় রাজশাহীর

উঠেও শেষ চার নিশ্চিত নয় রাজশাহীর



রানের লক্ষ্যও কী অনায়াসে পেরোল রাজশাহী কিংস। সিক্সার্সকে হারাল ৫ উইকেট আর ১২ বল হাতে রেখে। এল টেবিলের চারে। শেষ চার নিশ্চিত হয়নি

নিজেদের শেষ ম্যাচটা জয় দিয়েই শেষ করতে চেয়েছিল রাজশাহী কিংস কিংস জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এ পর্বের শেষ ম্যাচে সে লক্ষ্যটা লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে। সিক্সার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে মেহেদী হাসান হাসান মিরাজের দল। তাদের প্রার্থনা থাকবে পরের দুটি ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের হার। গিয়ে সাকিব আল হাসানের দলের শেষ দুটি ম্যাচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও ও খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে। একটিও ঢাকা জিতে গেলে রাজশাহীর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

দুর্ভাগ্য বলতেই হবে। ম্যাচটা তো দারুণ ব্যাটিংয়েই জিতেছে তারা। ব্যাটিং গোটা টুর্নামেন্টে হলে নিজেদের ভাগ্যটা নিজেরাই গড়ে নিতে পারত পারত রাজশাহী। তা হয়নি। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ভুগিয়েছে। দেশি তারকা মুমিনুল হক আর সৌম্য সরকার রান পাননি। তারকা লরি ইভানস দেরিতে ফর্মে এসেছেন। দিকে টপ অর্ডার নিয়ে এন্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্ষতিই করেছে তাদের। রান রেটটা শেষ পর্যন্ত সর্বনাশের কারণ হয়ে যেতে পারে। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেও শেষ চার দেখাচ্ছে এই দুই দলের দলের রান রেট।

পরেও আশা এখনো আছে। ঘটে যেতে পারে অনেক কিছুই। বুক বাঁধতে তো আর ক্ষতি নেই রাজশাহীর। এক ম্যাচে যাচ্ছেতাইভাবে হারলেও দৃশ্যপটটা বদলে যেতে পারে। পর এবার সিলেটের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে গেল।

আজ প্রথমে ব্যাটিং করে বড় স্কোরই গড়েছিল। যতই হাত বাড়িয়ে দিক, ভাগ্য নির্ভর করছে এমন স্নায়ুর ম্যাচে ১৯০ রান তাড়া করা কঠিন। সে কঠিন কাজটাই করেছে সাফল্যের সঙ্গে। পেরেছে আসলে ইভানস ও রায়ান টেন ডেসকাটের ব্যাটিংয়েই। ৪৪ বলে এই দুই ব্যাটসম্যান ১০৯ রানের জুটি গড়েই সিলেটকে ছিটকে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকে। ৩৬ বলে ৭৬ আর ডেসকাট করেন ১৮ বলে ৪২। ব্যাটে ছিল ১০ টি চার ও দুটি ছক্কা। মেরেছেন ৩ চার ও ২ ছক্কা।

বোলারদের বেধড়ক মার খেতে দেখে আর ব্যাটিংয়ের শুরুটা দেখে রাজশাহী রাজশাহী সমর্থকেরা কতটা আশাবাদী বলা, বলা কঠিন। ১৪ রানে ফেরেন জাকির হাসান। আহমেদের বলে এবাদত হোসেনের ক্যাচ। তাসকিনের ২১ তম শিকার।

জনস্টন চার্লস শাহরিয়ার নাফীসকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ রানের একটা জুটি গড়ে গড়ে ম্যাচে ফেরান রাজশাহীকে। বলে ৩৯ করে অলক কাপালির বলে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দেন দেন চার্লস। ১৩ বলে ৯ রান করে কাপালির বলেই আফিফের হাতে ক্যাচ ক্যাচ দেন। সময় সিলেট কিন্তু জয় দেখছিল। ইভানস আর ডেসকাট সব হিসাব পাল্টে দেন। থেকে ১৬ রান দূরে প্রথমে ডেসকাট আর ১৩ রান দূরে দূরে ইভানস ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচের অনেক বাইরে সিলেট। কাজটা ক্রিস্টিয়ান জঙ্কার আর সৌম্য সরকার সেরে ফেলেন খুব সহজেই সহজেই চাপে না পড়েই।

১৮৯ রানের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান নিকোলাস পুরানের। রীতিমতো তাণ্ডবই চালিয়েছেন রাজশাহীর বোলারদের ওপর। বলে ৭৬ রান করেছেন। ইনিংসে ছিল ৬ টি করে বাউন্ডারি ও ছক্কার মার! সাব্বির রহমান শুরুটা করেছিলেন। ৩৯ বলে ৪৫ করে আউট হন। দাস আর আফিফ হোসেনের ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১০ রান এলেও ইংলিশ তারকা তারকা জেসন রয়কে সঙ্গে নিয়ে আফিফ পাল্টা লড়াইটা ভালোই করেছিলেন। করেন ২৫ বলে ২৯ আর জেসন ৮ বলে ১৩।

পক্ষে কামরুল ইসলাম রাব্বি ৩০ রান দিয়ে নিয়েছে ২ উইকেট উইকেট আরাফাত সানি, মিরাজ, মোস্তাফিজরা খরচে বোলিংয়ে নিয়েছেন একটি করে উইকেট। বোলাররাও ছিলেন খরচে। তানভীর অবশ্য ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকিরা সোহেলের মতো বোলিং করতে পারেননি। একটি উইকেট নিয়েছেন। এবাদত, নাবিল সামাদরা ছিলেন উইকেটশূন্য। অভিজ্ঞ অধিনায়ক কাপালি নিয়েছেন ২ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ছিল লরি ইভানসের। এই ব্যাটসম্যান এবার একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আজ তৃতীয় সত্তরের ইনিংস ইনিংস খেললেন। বিয়ে করেছেন। এখনই ঘরে ফেরার সুযোগ হচ্ছে না ইভানসের। ম্যাচ শেষ হলেও ঢাকার দুটি ম্যাচ দেখতে হবে। কে জানে, হয়তো ঢাকার পরের ম্যাচেই নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে পারে রাজশাহীরও ভাগ্য!


Source link